Assam Directory
✕
বাংলা বর্ণমালা (Bengali Alphabet) — স্বরবর্ণ, ব্যঞ্জনবর্ণ, কার, ফলা ও যুক্তবর্ণ সম্পূর্ণ গাইড
📚 বাংলা ব্যাকরণ ও ধ্বনিতত্ত্ব • প্রামাণ্য চার্ট

বাংলা বর্ণমালা ৫০টি বর্ণ: স্বরবর্ণ, ব্যঞ্জনবর্ণ, কার, ফলা ও মাত্রার সম্পূর্ণ গাইড

স্বরবর্ণ (১১টি), ব্যঞ্জনবর্ণ (৩৯টি), অযোগবাহ বর্ণ (৩টি), কার চিহ্ন (১০টি), ফলা (৬টি), মাত্রার বিভাজন ও উচ্চারণ স্থানের নিখুঁত ধ্বনিতাত্ত্বিক বিশ্লেষণ। শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা (WB Primary & Upper Primary TET), CTET, WBCS, WBPSC ও স্কুল শিক্ষার্থীদের জন্য এক অনন্য নির্দেশিকা।

🔤 ৫০টি বর্ণমালা 🅐 ১১টি স্বরবর্ণ ক ৩৯টি ব্যঞ্জনবর্ণ ◎ ৩টি অযোগবাহ বর্ণ 🖋️ ১০টি কার চিহ্ন 🪶 ৬টি ফলা 📏 মাত্রার নিয়ম (৩২+৮+১০) 🎯 TET মডেল MCQ
লিপিবিজ্ঞান ও ইতিহাস

বাংলা বর্ণমালা পরিচিতি ও ঐতিহাসিক পটভূমি

বাংলা ভাষার প্রাণ হল তার সমৃদ্ধ বর্ণমালা। ব্রাহ্মী লিপি থেকে শুরু করে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের সংস্কার পর্যন্ত এর পথচলা সুদীর্ঘ।

যে কোনো ভাষার ধ্বনিকে লিখে প্রকাশ করার জন্য যেসব সাংকেতিক চিহ্ন বা প্রতীক ব্যবহার করা হয়, তাদের সমষ্টিকে বর্ণমালা (Alphabet) বলে। বাংলা লিপি মূলত প্রাচীন ভারতীয় ব্রাহ্মী লিপি থেকে উদ্ভূত এবং পরবর্তীতে কুটিল লিপির স্তর পার হয়ে প্রায় হাজার বছর আগে বাংলা-অসমীয়া লিপিশৈলীতে রূপলাভ করে। চর্যাপদের পদাবলি থেকে শুরু করে বর্তমান ডিজিটাল যুগ পর্যন্ত এই লিপি তার সৌন্দর্য ও বৈজ্ঞানিক ধ্বনিতত্ত্ব অক্ষুণ্ণ রেখেছে।

ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের সংস্কার: ১৮৫৫ সালে পণ্ডিত ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর তাঁর রচিত 'বর্ণপরিচয়' গ্রন্থে বাংলা বর্ণমালাকে বিজ্ঞানসম্মতভাবে সংস্কার করেন। তিনি সংস্কৃত অপ্রয়োজনীয় বর্ণ যেমন 'ঌ' (লি) ও 'ৡ' (লী) বাদ দেন এবং লোকউচ্চারণে স্বতঃস্ফূর্তভাবে গড়ে ওঠা 'ড়', 'ঢ়' ও 'য়'-কে স্বতন্ত্র বর্ণ হিসেবে বর্ণমালায় বিধিবদ্ধ করেন। পরবর্তীতে বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ ও আধুনিক পশ্চিমবঙ্গ বাংলা আকাদেমি এই ৫০টি বর্ণকে প্রমিত মান্য হিসেবে স্বীকৃতি দেয়।

💡 আসাম ও বাংলার বর্ণমালার নিবিড় আত্মীয়তা

বাংলা ও অসমীয়া লিপির মূল ভিত্তি এক। অসমীয়া বর্ণমালায় মোট ৫২টি বর্ণ রয়েছে, যার মধ্যে বাংলা 'র'-এর স্থলে 'ৰ' এবং অতিরিক্ত অন্তঃস্থ 'ৱ' ব্যবহৃত হয়। উভয় বর্ণমালাই পূর্বাঞ্চলীয় নাগরী লিপির উত্তরাধিকারী এবং এদের উচ্চারণরীতি ও বানানবিধিতে গভীর সাংস্কৃতিক যোগসূত্র রয়েছে।

Vowels (১১টি বর্ণ)

স্বরবর্ণ — সম্পূর্ণ তালিকা, IPA ও উচ্চারণ রীতি

যে ধ্বনি উচ্চারণের সময় ফুসফুস-তাড়িত বাতাস মুখগহ্বরের কোথাও বাধা পায় না এবং যা অন্য ধ্বনির সাহায্য ছাড়া নিজেই স্পষ্টভাবে উচ্চারিত হতে পারে, তাকে স্বরধ্বনি বলে। বাংলায় মোট ১১টি স্বরবর্ণ রয়েছে।

অ
/ɔ/ বা /o/
পূর্ণমাত্রা
অমর, অজয়
আ
/a/
পূর্ণমাত্রা
আকাশ, আম
ই
/i/
পূর্ণমাত্রা
ইট, ইলিশ
ঈ
/i/ (দীর্ঘ)
পূর্ণমাত্রা
ঈগল, ঈশ্বর
উ
/u/
পূর্ণমাত্রা
উট, উৎসব
ঊ
/u/ (দীর্ঘ)
পূর্ণমাত্রা
ঊষা, ঊর্মি
ঋ
/ri/
অর্ধমাত্রা
ঋতু, ঋণ
এ
/e/ বা /æ/
মাত্রাহীন
এক, একা
ঐ
/oi/
মাত্রাহীন
ঐতিহাসিক, ঐক্য
ও
/o/
মাত্রাহীন
ওজন, ওল
ঔ
/ou/
মাত্রাহীন
ঔষধ, ঔদাসীন্য

📊 স্বরবর্ণের বিজ্ঞানসম্মত শ্রেণিবিভাগ

শ্রেণি বর্ণ / ধ্বনি সংখ্যা ধ্বনিতাত্ত্বিক বৈশিষ্ট্য ও বিশ্লেষণ
মৌলিক স্বরধ্বনি অ, আ, ই, উ, এ, ও এবং অ্যা ৭টি সরল একক উচ্চারণ। ফুসফুসের বাতাস অখণ্ডভাবে উচ্চারিত হয়। (দ্রষ্টব্য: 'অ্যা' ধ্বনির লিখিত রূপ বাংলায় পৃথক নেই, কিন্তু এক/দেখা শব্দে বিদ্যমান)।
যৌগিক স্বরবর্ণ (দ্বিস্বর) ঐ (ও+ই), ঔ (ও+উ) ২টি দুটি একক স্বরের সমন্বয়ে তৈরি। তবে কথ্য বাংলায় মোট ২৫টি যৌগিক স্বরধ্বনি উচ্চারিত হয় (যেমন: যাই, মৌ, খায়)।
হ্রস্বস্বর অ, ই, উ, ঋ ৪টি উচ্চারণে তুলনামূলক কম সময় লাগে।
দীর্ঘস্বর আ, ঈ, ঊ, এ, ঐ, ও, ঔ ৭টি উচ্চারণে হ্রস্বস্বরের চেয়ে দ্বিগুণ বা কিছুটা বেশি সময় লাগে।
Consonants (৩৯টি বর্ণ)

ব্যঞ্জনবর্ণ — সম্পূর্ণ তালিকা ও বর্গভিত্তিক বিভাজন

যে ধ্বনি উচ্চারণের সময় ফুসফুস থেকে নির্গত বাতাস মুখের কোথাও না কোথাও বাধা পায় বা ঘর্ষণ সৃষ্টি করে এবং যা স্বরধ্বনির সাহায্য ছাড়া উচ্চারিত হতে পারে না, তাকে ব্যঞ্জনবর্ণ বলে। বাংলায় মোট ৩৯টি ব্যঞ্জনবর্ণ রয়েছে।

ক
/kɔ/
কণ্ঠ্য
কলম, কাক
খ
/kʰɔ/
কণ্ঠ্য
খাতা, খবর
গ
/ɡɔ/
কণ্ঠ্য
গরু, গান
ঘ
/ɡʱɔ/
কণ্ঠ্য
ঘর, ঘড়ি
ঙ
/ŋɔ/
কণ্ঠ্য
ব্যাঙ, রঙ
চ
/tʃɔ/
তালব্য
চাঁদ, চাকা
ছ
/tʃʰɔ/
তালব্য
ছবি, ছাতা
জ
/dʒɔ/
তালব্য
জল, জাহাজ
ঝ
/dʒʱɔ/
তালব্য
ঝড়, ঝরনা
ঞ
/ɲɔ/
তালব্য
মিঞা, চঞ্চল
ট
/ʈɔ/
মূর্ধন্য
টাকা, টমেটো
ঠ
/ʈʰɔ/
মূর্ধন্য
ঠাকুর, ঠিকানা
ড
/ɖɔ/
মূর্ধন্য
ডালিম, ডাকাত
ঢ
/ɖʱɔ/
মূর্ধন্য
ঢোল, ঢাকনা
ণ
/nɔ/
মূর্ধন্য
বাণ, বীণা
ত
/t̪ɔ/
দন্ত্য
তারা, তালা
থ
/t̪ʰɔ/
দন্ত্য
থালা, থাম
দ
/d̪ɔ/
দন্ত্য
দই, দরজা
ধ
/d̪ʱɔ/
দন্ত্য
ধান, ধনুক
ন
/nɔ/
দন্ত্য
নদী, নৌকা
প
/pɔ/
ওষ্ঠ্য
পাতা, পাখি
ফ
/pʰɔ/ বা /f/
ওষ্ঠ্য
ফুল, ফল
ব
/bɔ/
ওষ্ঠ্য
বই, বাঘ
ভ
/bʱɔ/ বা /v/
ওষ্ঠ্য
ভাত, ভালুক
ম
/mɔ/
ওষ্ঠ্য
মাছি, ময়ূর
য
/dʒɔ/
অন্তঃস্থ
যন্ত্র, যমুন
র
/rɔ/
কম্পনজাত
রং, রাজা
ল
/lɔ/
পার্শ্বিক
লাল, লাটিম
শ
/ʃɔ/
উষ্ম (তালব্য)
শাপলা, শালিক
ষ
/ʃɔ/
উষ্ম (মূর্ধন্য)
ষাঁড়, ষোল
স
/ʃɔ/ বা /s/
উষ্ম (দন্ত্য)
সূর্য, সকাল
হ
/hɔ/
কণ্ঠনালীয়
হাত, হরিণ
ড়
/ɽɔ/
তাড়নজাত
ঘড়ি, বাড়ি
ঢ়
/ɽʱɔ/
তাড়নজাত
আষাঢ়, দৃঢ়
য়
/e̯ɔ/
অন্তঃস্থ
আয়না, পায়রা
ৎ
/t̪/
খণ্ড ত
উৎসব, বিদ্যুৎ
ং
/ŋ/
অযোগবাহ
অংশ, সিংহ
ঃ
/h/
অযোগবাহ
দুঃখ, নিঃশ্বাস
ঁ
/~/
অযোগবাহ
চাঁদ, বাঁশি
পরাশ্রয়ী / অযোগবাহ বর্ণ

অযোগবাহ বর্ণ — ৩টি অনন্য সহায়ক চিহ্ন

যে বর্ণগুলো স্বর বা ব্যঞ্জন কোনো স্বাভাবিক বর্গের মধ্যে পড়ে না এবং যা স্বাধীনভাবে কখনোই শব্দে ব্যবহৃত হতে পারে না—সর্বদা পূর্ববর্তী বর্ণের আশ্রয়ে থেকে উচ্চারিত হয়, তাদের অযোগবাহ বর্ণ বা পরাশ্রয়ী বর্ণ বলে।

বর্ণ নাম ধ্বনিতাত্ত্বিক স্বরূপ ও উচ্চারণ শব্দে ব্যবহারের প্রমিত উদাহরণ
ং অনুস্বার (Anusvara) নাসিক্য অঘোষ ধ্বনি। মূলত 'ঙ'-এর হসন্ত রূপ (ঙ্)-এর সমতুল্য। অংশ, বাংলা, সিংহ, রং, অহিংসা, বংশ
ঃ বিসর্গ (Visarga) শব্দের মধ্যে থাকলে পরবর্তী ব্যঞ্জনকে দ্বিত্ব করে; অন্তে থাকলে মৃদু শ্বাসযুক্ত 'হ'-ধ্বনি তৈরি করে। দুঃখ [দুক্‌খো], অন্তঃকরণ, নিঃশব্দ, প্রায়ঃ, ফলতঃ
ঁ চন্দ্রবিন্দু (Candrabindu) অনুনাসিক দ্যোতক চিহ্ন। এটি কোনো স্বাধীন ধ্বনি নয়, স্বরধ্বনিকে নাসিক্য রূপ প্রদান করে। চাঁদ [tʃãd], বাঁশি, পাঁচ, হাঁস, কাঁচা
Vowel Diacritics (১০টি)

কার চিহ্ন (১০টি) — নিয়ম, অবস্থান ও প্রয়োগ

স্বরবর্ণ যখন ব্যঞ্জনবর্ণের সাথে মিলিত হয়, তখন তার পূর্ণ রূপ বদলে গিয়ে একটি সংক্ষিপ্ত রূপ ধারণ করে। এই সংক্ষিপ্ত রূপকে কার বলে।

⚠️ কেন 'অ'-এর কোনো কার চিহ্ন নেই?

বাংলা ভাষার প্রতিটি একক ব্যঞ্জনবর্ণের স্বাভাবিক উচ্চারণের সাথেই 'অ' ধ্বনিটি স্বাভাবিকভাবে অন্তর্লীন হয়ে থাকে (যেমন: ক = ক্ + অ, ম = ম্ + অ)। এই কারণে 'অ'-কে সহজাত স্বর, বিলীন স্বর বা Inherent Vowel বলা হয়। এজন্য এর জন্য কোনো আলাদা সাংকেতিক চিহ্নের প্রয়োজন হয় না।

স্বরবর্ণ কার চিহ্ন কারের নাম অবস্থান ক + কার শব্দের প্রমিত উদাহরণ
অ — কার নেই (বিলীন স্বর) অন্তর্নিহিত ক (ক্ + অ) কলম, কমল, কর
আ া আ-কার বর্ণের পরে (ডানে) কা কাক, কাগজ, আকাশ
ই ি হ্রস্ব ই-কার বর্ণের পূর্বে (বামে) কি দিন, কিতাব, পাখি
ঈ ী দীর্ঘ ঈ-কার বর্ণের পরে (ডানে) কী নদী, গভীর, তীর
উ ু হ্রস্ব উ-কার বর্ণের নিচে কু ফুল, কুকুর, সুখ
ঊ ূ দীর্ঘ ঊ-কার বর্ণের নিচে কূ মূল, দূর, কূল
ঋ ৃ ঋ-কার বর্ণের নিচে কৃ কৃষক, গৃহ, পৃথিবী
এ ে এ-কার বর্ণের পূর্বে (বামে) কে দেশ, মেঘ, বেল
ঐ ৈ ঐ-কার বর্ণের পূর্বে (বামে) কৈ কৈশোর, বৈশাখ, সৈকত
ও ো ও-কার বর্ণের উভয় পাশে (ে + া) কো লোক, কোল, কোকিল
ঔ ৌ ঔ-কার বর্ণের উভয় পাশে (ে + ৗ) কৌ কৌতুহল, নৌকা, মৌমাছি
Consonant Diacritics (৬টি)

ফলা (৬টি) — ব্যঞ্জনবর্ণের সংক্ষিপ্ত রূপ ও উচ্চারণ সূত্র

ব্যঞ্জনবর্ণ যখন অন্য কোনো ব্যঞ্জনবর্ণের সাথে যুক্ত হয়ে সংক্ষিপ্ত বা সাংকেতিক রূপ পরিগ্রহ করে, তখন তাকে ফলা বলে। বাংলায় মোট ৬টি ফলা রয়েছে।

ফলার নাম চিহ্ন মূল ব্যঞ্জন উচ্চারণগত ধ্বনি পরিবর্তন বিধি প্রমিত উদাহরণ
য-ফলা ্য য (য়) শব্দের শুরুতে থাকলে 'অ্যা' [æ] বা 'এ' উচ্চারণ হয় (ব্যথা = ব্যাথা); মাঝে বা শেষে থাকলে সেই ব্যঞ্জন দ্বিত্ব হয়। ব্যক্তি [ব্যাক্‌তি], ব্যাকরণ, সত্য [শোত্তো], সাহায্য
র-ফলা ও রেফ ্ৰ / র্ র ব্যঞ্জনের নিচে বসলে র-ফলা (গ্র, প্র); ব্যঞ্জনের পূর্বে উচ্চারিত হলে মাথার উপরে রেফ রূপে বসে (সর্প, বর্ষা)। গ্রাম, প্রথম, তীব্র, সূর্য, বর্ণ, ধর্ম
ল-ফলা ্ল ল মূল ব্যঞ্জনের সাথে ল-ধ্বনি অবিচ্ছিন্নভাবে দ্রুত উচ্চারিত হয়। ক্লাস, অম্ল, শুক্ল, গ্লানি, উল্লাস
ব-ফলা ্ব ব শব্দের শুরুতে ব-ফলার উচ্চারণ হয় না (যেমন: স্বর = শোর); মাঝে বা শেষে থাকলে ব্যঞ্জনটি দ্বিত্ব হয় (যেমন: বিশ্ব = বিশ্‌শো)। স্বদেশ [শদেশ], দ্বিতীয় [দ্বিতীও], বিদ্বান, অশ্ব
ম-ফলা ্ম ম শব্দের শুরুতে থাকলে উচ্চারণ নাসিক্য ভাব আনে (স্মরণ = শঁরোন্); মাঝে বা শেষে থাকলে ব্যঞ্জন দ্বিত্ব হয়ে নাসিক্য হয়। স্মৃতি [সঁরিতি], পদ্ম [পদ্‌দোঁ], ভস্ম, আত্মীয়
ন / ণ-ফলা ্ন / ্ণ ন / ণ পূর্ববর্তী ব্যঞ্জনের সাথে নাসিক্য ধ্বনি হিসেবে মিলিত উচ্চারিত হয়। রত্ন, যত্ন, প্রশ্ন, কৃষ্ণ, তৃষ্ণা, মধ্যাহ্ন
ক্যালিগ্রাফি ও লিপি গঠন

মাত্রার শ্রেণিবিভাগ — পূর্ণমাত্রা, অর্ধমাত্রা ও মাত্রাহীন বর্ণ

বাংলা লিপিতে বর্ণের মাথার ওপর অনুভূমিক রেখাকে মাত্রা বলে। মাত্রার উপস্থিতি ও পরিমাপের ভিত্তিতে ৫০টি বর্ণকে তিনটি সুস্পষ্ট শ্রেণিতে ভাগ করা হয়।

৩২টি
পূর্ণমাত্রার বর্ণ

স্বরবর্ণ (৬টি): অ, আ, ই, ঈ, উ, ঊ
ব্যঞ্জনবর্ণ (২৬টি): ক, ঘ, চ, ছ, জ, ঝ, ট, ঠ, ড, ঢ, ত, দ, ধ, ন, ফ, ব, ভ, ম, য, র, ল, ষ, স, হ, ড়, ঢ়, য়

অ আ ই ঈ উ ঊ ক ঘ চ ছ জ ঝ ট ঠ ড ঢ ত দ ধ ন ফ ব ভ ম য র ল ষ স হ ড় ঢ় য়
৮টি
অর্ধমাত্রার বর্ণ

স্বরবর্ণ (১টি): ঋ
ব্যঞ্জনবর্ণ (৭টি): খ, গ, ণ, থ, প, শ, ধ (দ্রষ্টব্য: প্রমিত ব্যাকরণে ধ-কে সাধারণত অর্ধমাত্রা ধরা হয়)

ঋ খ গ ণ থ প শ ধ
১০টি
মাত্রাহীন বর্ণ

স্বরবর্ণ (৪টি): এ, ঐ, ও, ঔ
ব্যঞ্জনবর্ণ (৬টি): ঙ, ঞ, ৎ, ং, ঃ, ঁ

এ ঐ ও ঔ ঙ ঞ ৎ ং ঃ ঁ
ধ্বনিতত্ত্ব ও উচ্চারণ স্থান

বর্গীয় স্পর্শ বর্ণ ও ধ্বনিবিজ্ঞান ম্যাট্রিক্স

ক থেকে ম পর্যন্ত ২৫টি বর্ণকে স্পর্শ বর্ণ বা বর্গীয় বর্ণ বলে। উচ্চারণের অঙ্গ ও স্থানের ভিত্তিতে এদের ৫টি বর্গে ভাগ করা হয়েছে।

বর্গ উচ্চারণ স্থান অঘোষ অল্পপ্রাণ (১ম) অঘোষ মহাপ্রাণ (২য়) ঘোষ অল্পপ্রাণ (৩য়) ঘোষ মহাপ্রাণ (৪র্থ) নাসিক্য / সানুনাসিক (৫ম)
ক-বর্গ জিহ্বামূল / কণ্ঠ্য ক খ গ ঘ ঙ
চ-বর্গ তালু / তালব্য চ ছ জ ঝ ঞ
ট-বর্গ মূর্ধা / পশ্চাদ্দন্তমূলীয় ট ঠ ড ঢ ণ
ত-বর্গ দন্ত / দন্ত্য ত থ দ ধ ন
প-বর্গ ওষ্ঠ / ওষ্ঠ্য (ঠোঁট) প ফ ব ভ ম
🎙️ ঘোষ ও প্রাণের মূল সূত্র:
  • অঘোষ বর্ণ: যে ধ্বনি উচ্চারণে স্বরতন্ত্রী অনুরণিত হয় না (বর্গের ১ম ও ২য় বর্ণ: ক, খ, চ, ছ, ট, ঠ, ত, থ, প, ফ)।
  • ঘোষ বর্ণ: যে ধ্বনি উচ্চারণে স্বরতন্ত্রী কেঁপে অনুরণিত হয় (বর্গের ৩য়, ৪র্থ ও ৫ম বর্ণ: গ, ঘ, ঙ, জ, ঝ, ঞ, ড, ঢ, ণ, দ, ধ, ন, ব, ভ, ম)।
  • অল্পপ্রাণ: বাতাসের চাপ বা মহাপ্রাণতা কম থাকে (১ম ও ৩য় বর্ণ)।
  • মহাপ্রাণ: বাতাসের প্রচণ্ড চাপ ও 'হ'-ধ্বনি যুক্ত থাকে (২য় ও ৪র্থ বর্ণ)।
Conjuncts (যুক্তব্যঞ্জন)

গুরুত্বপূর্ণ যুক্তবর্ণের গঠন ও বিশ্লেষণ

একাধিক ব্যঞ্জনবর্ণ পরস্পর সংযুক্ত হয়ে যখন একটি যৌথ রূপ পরিগ্রহ করে, তাকে যুক্তবর্ণ বলে। প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় প্রায়শই এদের বিশ্লেষণ ও উচ্চারণ জানতে চাওয়া হয়।

যুক্তবর্ণ সঠিক গঠন (বিশ্লেষণ) প্রমিত উচ্চারণ শব্দে ব্যবহারের উদাহরণ
ক্ষ ক্ + ষ শুরুর দিকে 'খ' (ক্ষতি), মাঝে বা শেষে 'ক্‌খ' (শিক্ষা) ক্ষমা, বৃক্ষ, পরীক্ষা, শিক্ষা, ক্ষেত্র
জ্ঞ জ্ + ঞ শব্দের শুরুতে 'গ্যাঁ' (জ্ঞান = গ্যাঁন); মাঝে 'গ্‌গ্যাঁ' জ্ঞান, বিজ্ঞান, অজ্ঞ, প্রজ্ঞা, বিশেষজ্ঞ
হ্ম হ্ + ম 'মূহ্' বা 'ম' এর সাথে গভীর শ্বাস (ব্রাম্হোন) ব্রাহ্মণ, ব্রহ্মপুত্র, ব্রহ্মা
হ্ন হ্ + ন (দন্ত্য ন) 'ন' প্রাধান্য পায় (চিহ্ন = চিন্হো) চিহ্ন, বহ্নি, জাহ্নবী
হ্ণ হ্ + ণ (মূর্ধন্য ণ) 'ণ' প্রাধান্য পায় অপরাহ্ণ, সায়াহ্ণ
ঙ্ক ঙ্ + ক ঙ-যুক্ত ক অঙ্ক, লঙ্কা, আতঙ্ক, অঙ্কুর
ঙ্গ ঙ্ + গ ঙ-যুক্ত গ বঙ্গ, গঙ্গা, অঙ্গ, সঙ্গী
ঞ্চ ঞ্ + চ ঞ-যুক্ত চ পঞ্চ, চঞ্চল, কাঞ্চন, মঞ্চ
ঞ্জ ঞ্ + জ ঞ-যুক্ত জ পঞ্জিকা, গঞ্জ, কুঞ্জ, অঞ্জলি
ণ্ট / ণ্ড ণ্ + ট / ণ্ + ড মূর্ধন্য নাসিক্য ঘণ্টা, বণ্টন / দণ্ড, কাণ্ড, পণ্ডিত
ষ্ণ ষ্ + ণ মূর্ধন্য ষ + ণ কৃষ্ণ, উষ্ণ, তৃষ্ণা, বিষ্ণু
ত্র ত্ + র ত-যুক্ত র-ফলা ছাত্র, রাত্রি, ত্রিভুজ, শত্রু
Numerals (০-৯)

বাংলা সংখ্যা ও অঙ্ক মালা (০ থেকে ৯)

বাংলা লিপির নিজস্ব ঐতিহ্যবাহী সংখ্যা পদ্ধতি রয়েছে যা সরকারি নথিপত্র, প্রাচীন সাহিত্য ও প্রাথমিক শিক্ষায় ব্যবহৃত হয়।

০
0
শূন্য (Zero)
১
1
এক (One)
২
2
দুই (Two)
৩
3
তিন (Three)
৪
4
চার (Four)
৫
5
পাঁচ (Five)
৬
6
ছয় (Six)
৭
7
সাত (Seven)
৮
8
আট (Eight)
৯
9
নয় (Nine)
WB TET, CTET & WBPSC স্পেশাল

বাংলা বর্ণমালা মডেল MCQ কুইজ ও উত্তর বিশ্লেষণ

শিক্ষক নিয়োগ ও রাজ্যস্তরের সরকারি প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার বিগত বছরের প্রশ্নপত্রের ধাঁচে প্রণীত ১৫টি প্রামাণ্য প্রশ্ন।

১ বাংলা বর্ণমালায় মোট বর্ণের সংখ্যা কতটি?
(ক) ৪৮টি
(খ) ৪৯টি
(গ) ৫০টি
(ঘ) ৫২টি
✅ সঠিক উত্তর: (গ) ৫০টি। বিশ্লেষণ: বাংলা বর্ণমালায় ১১টি স্বরবর্ণ এবং ৩৯টি ব্যঞ্জনবর্ণ মিলিয়ে সর্বমোট ৫০টি বর্ণ প্রমিত ব্যাকরণে স্বীকৃত।
২ কোন স্বরবর্ণটির নিজস্ব কোনো 'কার' চিহ্ন নেই?
(ক) আ
(খ) অ
(গ) ঋ
(ঘ) এ
✅ সঠিক উত্তর: (খ) অ। বিশ্লেষণ: 'অ' ব্যঞ্জনের সাথে সহজাতভাবে যুক্ত থাকে বলে একে 'বিলীন স্বর' বা 'রঙিনহীন স্বর' বলা হয়। এর কোনো পৃথক কার চিহ্ন নেই।
৩ বাংলা বর্ণমালায় পূর্ণমাত্রার বর্ণের মোট সংখ্যা কত?
(ক) ৩২টি
(খ) ৩০টি
(গ) ২৬টি
(ঘ) ৩৪টি
✅ সঠিক উত্তর: (ক) ৩২টি। বিশ্লেষণ: স্বরবর্ণে ৬টি (অ, আ, ই, ঈ, উ, ঊ) এবং ব্যঞ্জনবর্ণে ২৬টি বর্ণ পূর্ণমাত্রা সম্পন্ন, মোট ৩২টি।
৪ 'ক্ষ' যুক্তবর্ণটি কোন দুটি বর্ণের মিলনে গঠিত?
(ক) ক্ + খ
(খ) ক্ + ষ
(গ) ক্ + স
(ঘ) খ্ + ষ
✅ সঠিক উত্তর: (খ) ক্ + ষ। বিশ্লেষণ: ক্ এবং মূর্ধন্য ষ মিলিত হয়ে 'ক্ষ' যুক্তবর্ণ গঠিত হয়।
৫ 'জ্ঞ' যুক্তবর্ণটির সঠিক বিশ্লেষণ কোনটি?
(ক) গ্ + ঞ
(খ) জ্ + ঞ
(গ) জ্ + ণ
(ঘ) গ্ + গ
✅ সঠিক উত্তর: (খ) জ্ + ঞ। বিশ্লেষণ: বর্গীয় 'জ' এবং তালব্য 'ঞ' যুক্ত হয়ে 'জ্ঞ' গঠিত হয়। যদিও কথ্য বাংলায় এর উচ্চারণ 'গ্যঁ'-এর মতো হয়।
৬ নিচের কোন বর্ণগুলি 'অযোগবাহ' বা পরাশ্রয়ী বর্ণ হিসেবে পরিচিত?
(ক) ড়, ঢ়, য়
(খ) শ, ষ, স
(গ) ং, ঃ, ঁ
(ঘ) ঙ, ঞ, ণ
✅ সঠিক উত্তর: (গ) ং, ঃ, ঁ। বিশ্লেষণ: এরা অন্য কোনো স্বরের সাহায্য ব্যতীত নিজে শব্দ গঠন বা উচ্চারিত হতে পারে না, তাই এদের অযোগবাহ বলে।
৭ বাংলা ভাষায় মৌলিক স্বরধ্বনির সংখ্যা কতটি?
(ক) ৭টি
(খ) ৯টি
(গ) ১১টি
(ঘ) ৮টি
✅ সঠিক উত্তর: (ক) ৭টি। বিশ্লেষণ: মৌলিক স্বরধ্বনি ৭টি: অ, আ, ই, উ, এ, ও এবং অ্যা।
৮ বাংলায় ফলা কয়টি রয়েছে?
(ক) ৫টি
(খ) ৬টি
(গ) ৭টি
(ঘ) ৮টি
✅ সঠিক উত্তর: (খ) ৬টি। বিশ্লেষণ: বাংলায় মোট ৬টি ফলা: ন/ণ-ফলা, ব-ফলা, ম-ফলা, য-ফলা, র-ফলা এবং ল-ফলা।
Quick Cheat Sheet

দ্রুত রেফারেন্স চার্ট — সংখ্যাতাত্ত্বিক সারসংক্ষেপ

পরীক্ষার ঠিক আগে রিভিশন দেওয়ার জন্য এক নজরে বর্ণমালার যাবতীয় সংখ্যা ও নিয়মাবলী।

ধ্বনিতাত্ত্বিক বিষয় সংখ্যা অন্তর্ভুক্ত বর্ণ ও বিস্তারিত তথ্য
মোট প্রমিত বর্ণ ৫০টি ১১টি স্বরবর্ণ + ৩৯টি ব্যঞ্জনবর্ণ
স্বরবর্ণ ১১টি অ, আ, ই, ঈ, উ, ঊ, ঋ, এ, ঐ, ও, ঔ
ব্যঞ্জনবর্ণ ৩৯টি ক থেকে চন্দ্রবিন্দু পর্যন্ত
মৌলিক স্বরধ্বনি ৭টি অ, আ, ই, উ, এ, ও, অ্যা [æ]
যৌগিক স্বরবর্ণ ২টি ঐ (ও+ই), ঔ (ও+উ)
কার চিহ্ন ১০টি আ-কার থেকে ঔ-কার ('অ'-এর কার নেই)
ফলা চিহ্ন ৬টি ন/ণ, ব, ম, য, র, ল ফলা
পূর্ণমাত্রা বর্ণ ৩২টি স্বরবর্ণ ৬টি + ব্যঞ্জনবর্ণ ২৬টি
অর্ধমাত্রা বর্ণ ৮টি স্বরবর্ণ ১টি (ঋ) + ব্যঞ্জনবর্ণ ৭টি (খ, গ, ণ, থ, প, শ, ধ)
মাত্রাহীন বর্ণ ১০টি স্বরবর্ণ ৪টি (এ, ঐ, ও, ঔ) + ব্যঞ্জনবর্ণ ৬টি (ঙ, ঞ, ৎ, ং, ঃ, ঁ)
স্পর্শ বা বর্গীয় বর্ণ ২৫টি ক থেকে ম পর্যন্ত (৫টি বর্গে বিভক্ত)
উষ্ম বা শিস বর্ণ ৪টি শ, ষ, স, হ
অযোগবাহ বর্ণ ৩টি ং (অনুস্বার), ঃ (বিসর্গ), ঁ (চন্দ্রবিন্দু)
তাড়নজাত বর্ণ ২টি ড়, ঢ়
সাধারণ প্রশ্নোত্তর

প্রায়ই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ)

শিক্ষার্থী ও প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার্থীদের সচরাচর উত্থাপিত প্রশ্নের বিশেষজ্ঞ সমাধান।

আধুনিক প্রমিত ব্যাকরণ অনুযায়ী বাংলা বর্ণমালায় মোট ৫০টি বর্ণ রয়েছে। এর মধ্যে ১১টি স্বরবর্ণ এবং ৩৯টি ব্যঞ্জনবর্ণ।
বাংলায় মৌলিক স্বরধ্বনি ৭টি: অ, আ, ই, উ, এ, ও এবং অ্যা [æ]। যদিও 'অ্যা' ধ্বনির জন্য বর্ণমালায় কোনো পৃথক বর্ণ বরাদ্দ নেই, তবুও এটি উচ্চারণে অপরিহার্য।
বাংলায় মোট ১০টি কার চিহ্ন রয়েছে। 'অ'-এর কোনো নিজস্ব কার চিহ্ন নেই, কারণ এটি প্রতিটি একক ব্যঞ্জনে স্বাভাবিকভাবে যুক্ত থাকে।
মাত্রার ভিত্তিতে ৫০টি বর্ণকে ৩ ভাগে ভাগ করা হয়: পূর্ণমাত্রা (৩২টি), অর্ধমাত্রা (৮টি) এবং মাত্রাহীন (১০টি)।
'ৎ' হলো 'ত' বর্ণের স্বরহীন হসন্ত রূপ (ত্)। আধুনিক প্রমিত বর্ণমালায় একে ৩৯টি ব্যঞ্জনবর্ণের অন্যতম হিসেবে পূর্ণ মর্যাদা দেওয়া হয়েছে।
যে বর্ণগুলো স্বাধীনভাবে ব্যবহৃত হতে পারে না এবং স্বর বা ব্যঞ্জনের আশ্রয়ে উচ্চারিত হয় তাদের অযোগবাহ বলে। বাংলায় অযোগবাহ বর্ণ ৩টি: অনুস্বার (ং), বিসর্গ (ঃ) এবং চন্দ্রবিন্দু (ঁ)।
উভয় লিপি পূর্বী নাগরী লিপি থেকে উদ্ভূত। অসমীয়ায় বাংলা 'র'-এর স্থলে 'ৰ' এবং অতিরিক্ত 'ৱ' বর্ণ ব্যবহৃত হয়। এছাড়া অসমীয়ায় 'ক্ষ'-কে স্বতন্ত্র বর্ণরূপে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

বাংলা ভাষা ও ব্যাকরণ শেখায় আরও সমৃদ্ধ হন

আসাম ডিরেক্টরি ব্লগে রয়েছে আসাম ও পূর্বাঞ্চলের সংস্কৃতি, ভাষা, লোকঐতিহ্য ও শিক্ষাবিষয়ক গভীর তথ্যমূলক নিবন্ধসমূহ।

Advertise with us Add Your Business